শুক্রবার, ২৬ Jun ২০২৬, ০৪:০৪ পূর্বাহ্ন
মোঃ শিহাব উদ্দিন গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি।
নিজেকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে গোপালগঞ্জে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারেফ হোসেন মোল্লা। আজ রোববার সকালে প্রেসক্লাব গোপালগঞ্জের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে মুক্তিযোদ্ধা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। পরে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মোশারেফ হোসেন মোল্লা বলেন, সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে তাঁকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা তাঁর দাবি অনুযায়ী সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি বলেন, তিনি একজন স্বীকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা। তাঁর মুক্তিযোদ্ধা নম্বর ০১৩৫০০০৫০৯৪ এবং লাল মুক্তিবার্তা নম্বর ১০৯০১০২৭৮। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গেজেটভুক্ত তালিকায়ও তাঁর নাম রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে তাঁকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে।
নিজের দাবির পক্ষে তিনি মুক্তিবার্তা, মন্ত্রণালয়ের গেজেট, মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়পত্র, স্বাধীনতা সংগ্রামের সনদপত্রসহ বিভিন্ন সরকারি নথি উপস্থাপন করেন। তাঁর ভাষ্য, ২০২১ সালে মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্তির জন্য আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাইয়ের একটি অসম্পূর্ণ তালিকার তথ্যকে ভিত্তি করে তাঁকে নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে। অথচ গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সরকারি মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মোশারেফ হোসেন মোল্লা বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ও তাঁর ছোট ভাই ভারতে গিয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং পরে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। তাঁদের পরিবারের একাধিক সদস্য মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। সেই ইতিহাস উপেক্ষা করে তাঁকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আখ্যায়িত করা দুঃখজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনের আগে তাঁর বক্তব্য নেওয়া হয়নি। এ ছাড়া স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, জেলা প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছ থেকেও তথ্য যাচাই করা হয়নি বলে তাঁর দাবি।
সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত তথ্য উদঘাটন এবং তাঁর মানহানির জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
পরে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর কাছে চার দফা দাবিসংবলিত একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
মানববন্ধনে উপস্থিত বক্তারাও প্রকাশিত তথ্যের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে একজন মুক্তিযোদ্ধার সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা।
All rights reserved © 2020-2024 dainikparibarton.com
অনুমতি ব্যতিত এই সাইটের কোনো কিছু কপি করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।